অসংবাদ

‘স্যার’ ডাকতে বাধ্য করলেন তরুণ সংগঠক মুনতাছির

অফিস প্যারা
বড় স্যার
10 June 2026 4

বয়স ধরে রাখার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে! কেউ মাখেন অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, কেউ চুলে লাগান কলপ। কিন্তু হাল আমলের এক উদীয়মান তরুণ সংগঠক এবং স্বঘোষিত টমেটো বিশেষজ্ঞ মুনতাছির আবিষ্কার করেছেন এক যুগান্তকারী কৌশল। বয়স কমাতে তিনি রূপচর্চার বদলে বেছে নিয়েছেন ব্যাকরণ চর্চা! তরুণদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের মেসেঞ্জার গ্রুপে তিনি এক অদ্ভুত নির্দেশনা দিয়ে রীতিমতো স্যার ডাকতে বাধ্য করলেন সবাইকে।

ঘটনার সূত্রপাত সেই মেসেঞ্জার গ্রুপে। সেখানে মুনতাছির এক চাঞ্চল্যকর তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আপনারা চাইলে আমাকে স্যার ডাকতে পারেন, ভাই ডাকলে কেমন জানি সিনিয়র সিনিয়র লাগে।” অর্থাৎ, ‘ভাই’ শব্দটিতে লুকিয়ে আছে বার্ধক্যের ছাপ, আর ‘স্যার’ ডাকলেই নাকি ফিরে পাওয়া যায় হারানো যৌবন! টমেটোর মতো লাল টুকটুকে সতেজ থাকার হয়তো এটাই তার গোপন রহস্য।
নেতার এমন যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর সদস্যদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। আরিফুল নামের এক সদস্য কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, “ওকে স্যার”। আরেকজন তো আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, “আমি আগে থেকেই স্যার ডাকি”। তবে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত ছিলেন রাইহান নামের এক সদস্য। তিনি এক নিঃশ্বাসে, “ইয়েস স্যার/ জ্বি স্যার/ আচ্ছা স্যার/ ঠিকাছে স্যার..” লিখে নিজের অটল ভক্তি প্রমাণ করেন।
তবে এই আবিষ্কারের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ধরে ফেলেছেন সংগঠনের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নয়ন। তিনি গভীরভাবে চিন্তা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, “স্যার বলতে গিয়ে যেন আবার সিনিয়র সিটিজেন না ভাবে”। এমনকি এই ডাকার কারণে “আবার চাচা ভাবতেও পারে” বলে একটি ঝুঁকি থেকে যায় বলেও সতর্ক করেন তিনি।

যেহেতু সংগঠনের সবাই লেখালেখি করেন, তাই কলমের জোর তো দেখাতেই হবে! এক সদস্য সোজা জানিয়ে দেন, “স্যারকে চায়ের বিল রেডি করতে বলেন, না হয় নিউজ ছেপে দিব”।

কিন্তু টমেটো বিশেষজ্ঞ মুনতাছির কি আর এমনি এমনি নেতা হয়েছেন? ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েও তিনি অবিচল। উল্টো তিনি হিসাব কষে দেখেন যে বিনা খরচে বিখ্যাত হওয়ার এটাই সেরা সুযোগ। তিনি বলেন, “চা আর এমন কি বিষয়, চা না খাইয়ে যদি শিরোনামে আসা যায়”। এরপর তিনি সোজা ইনবক্সে গিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “পারলে নিউজ করে দেখান তারপর চা খাওয়াবো”।
প্রতিবেদকও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি “wait & see” বলে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

এদিকে ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টি সাংবিধানিক কি না জানতে চাইলে সংগঠনের অবিবাহিত উপদেষ্টা ছিদ্দীকি সাহেব বলেন, “স্যার বিয়ে করেননি, কিন্তু বউ আছে। বাচ্চা নাই কিন্তু বাচ্চার মা আছে। সন্তান নাই কিন্তু নাম দেওয়া আছে। তিনি আবার সবাইকে স্যার ডাকতে বলে৷ কিন্তু তার পুকি বললে রাগ করে।”

এখন সারা দেশের চোখ তরুণ সংগঠক মুনতাছিরের দিকে। তিনি কি যৌবন ধরে রাখার আনন্দে সবাইকে চা খাওয়াবেন, নাকি টমেটো গবেষণার কথা বলে বিল দেওয়া থেকে বেঁচে যাবেন? সেটাই এখন দেখার বিষয়!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি কাল্পনিক রম্য ও স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানকার সমস্ত সংবাদ, চরিত্র ও ঘটনা ফিকশন বা রসিকতা মাত্র। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল পাওয়া গেলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয়!
শেয়ার করুন: